মঙ্গলবার ২৬ মে ২০২৬ - ০৮:৪৫
আরাফার দুপুর থেকে সূর্যাস্ত— প্রতিটি মুহূর্ত যেন পাপমোচনের এক একটি মহৌষধ

ইরানের শহীদ সর্বোচ্চ নেতা জোর দিয়ে বলেছেন, দোয়া-এ আরাফা কেবল একটি সাধারণ প্রার্থনা নয়; বরং এটি এমন এক আধ্যাত্মিক ও মানবিক পাঠশালা, যা মানুষের মধ্যে গড়ে তোলে এক “অগ্রসরমাণ মহান ব্যক্তিত্ব”— যে ব্যক্তি জ্ঞান, সমাজ, রাজনীতি, শিল্প ও জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পবিত্র আরাফার দিবস উপলক্ষে শহীদ বিপ্লবী নেতার আরাফার দিন ও ইমাম হুসাইন (আ.)-এর দোয়া-এ আরাফা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বক্তব্য জ্ঞানান্বেষী পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

আরাফার দিনকে যথার্থভাবে মূল্যায়ন করুন। দোয়া, বিনয়, কান্না, মনোযোগ ও মহান আল্লাহর কাছে একান্ত প্রার্থনার মাধ্যমে প্রকৃত অর্থে হৃদয়ের গিরাগুলো খুলে ফেলুন। কারণ আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া ব্যতীত আমাদের সকল প্রচেষ্টা ও পরিশ্রম কোনো ফল বয়ে আনতে পারে না।

দোয়া-এ কুমাইলে বলা হয়েছে: “লা ইউনালু যালিকা ইল্লা বিফাযলিক”— অর্থাৎ, আমরা আমাদের সব দায়িত্ব পালন করি; কিন্তু আমাদের এই প্রচেষ্টা ও কর্তব্যে প্রাণ ও আত্মা সঞ্চার করে আল্লাহর অনুগ্রহ, দয়া ও বিশেষ রহমত।

অবশ্যই প্রতিটি মুহূর্তেই আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা সম্ভব; তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন নয়। তবে কিছু সময় ও কিছু দিনের রয়েছে বিশেষ মর্যাদা ও তাৎপর্য। সেই বিশেষ দিনগুলোর শীর্ষে রয়েছে আরাফার দিন এবং ঈদুল আজহার দিন।
[৬ জুলাই ২০২৩]

আরাফার দিন হলো দোয়া, তাওয়াসসুল, আল্লাহর প্রতি গভীর মনোযোগ ও সর্বোচ্চ আত্মনিবেদনের দিন। বর্ণনায় এসেছে, ইমাম মূসা আল-কাযিম (আ.) বলেছেন, আমার পিতা ইমাম জাফর আস-সাদিক (আ.) আরাফার দিনে আরাফাতের প্রখর উত্তাপে রোজা রাখতেন— সম্ভবত মান্নতের রোজা— এবং দীর্ঘ সময় ধরে দোয়া, কান্না ও আল্লাহর দরবারে মিনতিতে নিমগ্ন থাকতেন।

ইমাম হুসাইন (আ.)-এর দোয়া-এ আরাফার মর্যাদা তো সুস্পষ্টই। একইভাবে সহিফায়ে সাজ্জাদিয়ার আরাফার দোয়াটিও অসাধারণ ও গভীর তাৎপর্যপূর্ণ। এগুলো সবই আরাফার দিনের মহিমান্বিত আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আশা করি, আমাদের প্রিয় জাতি এই বরকতময় দিন থেকে পর্যাপ্ত আধ্যাত্মিক উপকার লাভ করেছে এবং ইনশাআল্লাহ আপনাদের সব দোয়া কবুল হবে।

আরাফার দিনকে গুরুত্ব দিন। নিজেদেরকে মহান প্রতিপালকের দরবারে বিনয় ও আত্মসমর্পণের সঙ্গে উপস্থিত হওয়ার জন্য প্রস্তুত করুন। এটি এক মহিমান্বিত দিন।

মানুষের অন্তর নানা গাফেলতি, পাপ ও পার্থিব ব্যস্ততায় ধূলিমলিন ও মরিচাধরা হয়ে যায়। কিন্তু কান্না, বিনয়, যিকির ও তাওয়াসসুল সেই অন্তরের মরিচা ও অন্ধকার দূর করে দেয়।

কিছু নির্দিষ্ট দিন রয়েছে, যেগুলো আত্মশুদ্ধি ও অন্তর পরিশুদ্ধির জন্য বিশেষ সুযোগ এনে দেয়; আর সেসব দিনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দিন হলো আরাফার দিন। আরাফার দুপুর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের প্রতিটি মুহূর্ত যেন এক একটি মহৌষধ, যেন অমূল্য কিমিয়া। তাই এই বরকতময় মুহূর্তগুলোকে গাফেলতিতে নষ্ট করা উচিত নয়।

এই আমলগুলোর একটি উজ্জ্বল নিদর্শন হলো ইমাম হুসাইন (আ.)-এর বিস্ময়কর দোয়া-এ আরাফা— যা বিনয়, আত্মসমর্পণ, যিকির ও আল্লাহর দরবারে আকুল মিনতির জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। আরেকটি হলো ইমাম সাজ্জাদ (আ.)-এর সাহিফায়ে সাজ্জাদিয়ার দোয়া। এসব দোয়া গভীর মনোযোগ, উপলব্ধি ও চিন্তাভাবনার সঙ্গে পাঠ করুন; কারণ এগুলোই একজন মুমিনের জীবনের প্রকৃত পাথেয়।
[১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৫]

তিনি আরও বলেন, “দোয়া-এ আবু হামযা সুমালি জ্ঞানের অফুরন্ত ভাণ্ডার। ইমাম হুসাইন (আ.)-এর দোয়া-এ আরাফাও গভীর তাত্ত্বিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শিক্ষায় পরিপূর্ণ। আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলছি— যে ব্যক্তি অর্থ ও মনোযোগসহ দোয়া-এ আরাফা পাঠ করবে, সে দোয়া শুরু করার আগের মানুষটির মতো আর থাকবে না; যদিও এর আগে সে বহুবার এই দোয়া পাঠ করে থাকে। সহিফায়ে সাজ্জাদিয়ার দোয়াগুলোর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

এই দোয়াগুলো প্রকৃতপক্ষে জীবনের পাঠশালা। বাহ্যিকভাবে মনে হয়, ইমামগণ মাথা নত করে বসে কাঁদছেন ও মিনতি করছেন; অথচ এই দোয়াগুলোর মধ্য থেকেই আজকের বিশ্বের একজন রাজনীতিবিদের রাজনৈতিক দর্শন, সামাজিক চেতনা ও কর্মপদ্ধতির ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায়।

এই দোয়াগুলোই মানুষকে সেই প্রয়োজনীয় পরিচয়, আত্মশক্তি ও দৃঢ় ব্যক্তিত্ব দান করে, যা একজন সক্রিয়, অগ্রসরমাণ ও মহান মানুষ গঠনে সহায়তা করে— এমন মানুষ, যে জ্ঞান, রাজনীতি, শিল্প, প্রতিরক্ষা ও জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সফলভাবে অগ্রসর হতে সক্ষম।”

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha